মেকাপ

শুষ্ক ত্বকে মুখের বেস

যাদের শুষ্ক ত্বক, তাদের মুখে ঠিক মত মেক-আপ বসতে চায় না। মেক-আপ করার পর মুখের মরা কোষ গুলো দেখা যায়, যেটা খুব বিব্রতকর। সামনে ঈদ। ঈদে সবাই কম বেশি মেক-আপ করবে । শুষ্ক ত্বকে মেক-আপ করার আগে কিছু জিনিস খেয়াল রাখলেই, সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। শুষ্ক ত্বক থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য মধু, কাঁচা দুধ, লেবুর মাস্ক লাগাতে পারেন। আর কথা না বাড়িয়ে কিভাবে মুখের বেস করতে হয় সেটা জেনে নিই।

মুখের বেস করার আগে করনীয়ঃ

যেহেতু শুষ্ক ত্বকে মরা কোষ বেশি দেখা দেয়, তাই মেক-আপ করার আগে ভালো করে মুখ স্ক্রাব করতে হবে। যেকোনো ফলের তৈরি স্ক্রাব অথবা চালের গুঁড়া , মধু, চিনি দিয়ে স্ক্রাব বানিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের ব্রাশ দিয়ে মুখে ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে যেভাবে ঘুরবে ঠিক সেভাবে পুরো মুখ ভালো ভাবে স্ক্রাবিং করুন। এতে করে মুখের সব মরা কোষ উঠে যাবে। ব্ল্যাকহেডস দূর হবে। তারপর ক্রিম যুক্ত যেকোনো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবার একটু বরফ কুঁচি নিয়ে মুখের টি জোনে ৫ মিনিট ঘষুন। মুখে টোনার লাগিয়ে ফেলুন। এরপর নিজের ত্বকে স্যুট করে এমন কোন ক্রিম লাগিয়ে ফেলুন।

ফেস প্রাইমারঃ

ত্বকে মেক-আপ দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য প্রাইমার অনেক জরুরী। আর যেহেতু শুষ্ক ত্বকে এমনিতে মেক-আপ বসে না, তাই মুখে মেক-আপ বসার জন্য প্রাইমার অবশ্যই দরকার পড়বে। যাদের প্রাইমার নেই তারা বিবি ক্রিম দিয়ে মুখের বেস করে নিতে পারেন। প্রাইমারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। প্রাইমার অবশ্যই ক্রিম বেসড হতে হবে। ( ক্রিম লাগানোর ৫ মিনিট পর প্রাইমার লাগাবেন )

ফাউন্ডেশনঃ

শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বেসড অথবা জেল বেসড, লিকুইড ফাউন্ডেশন ভালো। যারা ফাউন্ডেশন পছন্দ করেন না অথবা সকালে , দুপুরে ভাড়ি মেক-আপ দিতে চান না, তারা টিনটেড ময়েশচারাইজার ব্যবহার করতে পারেন অথবা বি বি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। বাসায় টিনটেড ময়েশচারাইজার অথবা বি বি ক্রিম কোনটাই নাই ? কোন সমস্যা নেই। ত্বকে স্যুট করে এমন ক্রিম এর সাথে অয়েল যুক্ত ফাউন্ডেশন সমপরিমাণ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ফেলুন, হয়ে যাবে টিনটেড ময়েশচারাইজার অথবা বি বি ক্রিম এর কাজ। টিনটেড ময়েশচারাইজার অথবা বি বি ক্রিম, আপনাকে ন্যাচারাল লুক দিবে। যেহেতু শুষ্ক ত্বকে মুখে অয়েল কম উৎপাদন হয় তাই, ফাউন্ডেশন অবশ্যই অয়েল বেসড হতে হবে।

ফেস পাউডারঃ

শুষ্ক ত্বকের জন্য মিনেরাল বেসড ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। মেক-আপ এর ফিনিসিং এর জন্য ফেস পাউডার অবশ্যই দরকার।

ঠোঁটঃ

যাদের শুষ্ক ত্বক তারা ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়ার পর, মরা কোষ দেখা দেয়। তাই লিপস্টিক দেয়ার আগে টুথব্রাশ দিয়ে ঠোঁট ঘষে মরা চামড়া গুলো উঠিয়ে ফেলুন, অথবা চিনি, লেবু দিয়ে ঠোঁট স্ক্রাব করুন। এতে করে ঠোঁটের মরা কোষ উঠে যাবে এবং ঠোঁটের কালো দাগ-ও থাকবে না। তাছাড়া লিপস্টিক দেওয়ার আগে ঠোঁটে ভেসলিন লাগিয়ে লিপস্টিক দিবেন। যদি খুব তাড়াহুড়া থাকে তাহলে লিপগ্লস অথবা ক্রিম যুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করবেন।

সেটিং স্প্রে অথবা টোনারঃ

মুখের মেক-আপ করা শেষ হয়ে গেলে, সেটিং স্প্রে অথবা টোনার মুখে স্প্রে করুন ২/৩ বার। সেটিং স্প্রে অথবা টোনার কোনটাই নেই ?? তাহলে শুধু পানি ২/৩ বার মুখে স্প্রে করে, স্পঞ্জ দিয়ে ডেব করে নিন। এতো করে মুখ হাইড্রেট থাকবে অনেকক্ষণ। মেক-আপ করার ৩/৪ ঘণ্টা পরেও মুখে কোন মরা কোষ দেখা যাবে না। তাছাড়া ব্যাগ এ একটি টোনার অথবা সেটিং স্প্রে রেখে দিন। মেক-আপ কে ৪/৫ ঘণ্টা পর সেট করার জন্য এটি কাজে দিবে।

ছোট টিপসঃ

০১। খুব বেশি মুখ শুষ্ক থাকলে ফেস সিরাম ব্যবহার করুন।

২। অনেক বেশি পানি পান করুন। প্রতিদিন ১০ গ্লাস।

৩। চা, কফি পরিহার করুন।

৪। মেক-আপ ভালো করে উঠাবেন যেকোনো ক্লিঞ্জিং মিল্ক দিয়ে। অথবা অলিভ অয়েল , নারিকেল তেল দিয়ে।

৫। মেক-আপ উঠানোর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে, নাইট ক্রিম লাগান।

শুষ্ক ত্বকের জন্য কিছু ফাউন্ডেশনঃ

০১। Revlon colorstay foundation (dry skin )

০২।Neutrogena Healthy Skin

০৩। Nars Sheer Glow

০৪। Estee Lauder Double Wear

০৫। Bobbi brown tinted moisturizing balm

আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ।

লিখেছেনঃ তাপসী

মডেলঃ ফারিন

Comments

comments

Recommended