এসো নিজে করি, ব্রাইডাল, মেকাপ, সম্পাদকের পছন্দ

বেইজ মেকাপ: শুরু থেকে শেষ!

বলুন দেখি ঢাকার নামি দামী পার্লারে একটা পার্টি মেকাপ নেওয়ার খরচ কেমন? সবচেয়ে হাল্কা সাজ শুরু হয় ১১০০ থেকে , মোটামুটি মনমত সাজ নেওয়া যায় কম হলেও ৩৫০০টাকা। এবার বলুন একটা পার্টিতে সাজতে যদি খরচ হয় ৩০০০ টাকা কম বেশি, সেটা বহন করার সামর্থ্য কয়জনের আছে? বা সামর্থ্য থাকলেও এই খরচের জাস্টিফিকেশন কি? আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো সাহস করে উঠতে পারি না একটা পার্টির জন্য ৩০০০টাকা দিয়ে মেকাপ নেওয়ার। তাই নিজের মেকাপটা বরাবরই নিজেই করার অভ্যাস আমার। আমি মনে করি বেইজ করাটা একটা সুন্দর গেটাপ/মেকাপের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেশ অনেকদিন ধরে নিজে করে trial and error পদ্ধতির পর আমি যেই স্টেপগুলো ফলো করি তা এই আর্টিকেলে জানাবো।

আমার ত্বকের ধরণ তৈলাক্ত, সেনসিটিভ । কিছুটা ব্রণের ধাঁত আছে। তাই সবসময় মেকাপের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকতে হয়। জমকালো পার্টি মেকাপের বেইজ দুইভাবে করা যায়, এক হচ্ছে – ফাউন্ডেশন,ফেইসপাউডার ইউজ করে, আর নয়ত প্যানকেক ব্যবহার করে। আমি দুই পদ্ধতির কথাই লিখবো, যার যেমন ভালো লাগে সেভাবে করবেন। তবে বলে রাখি প্যানকেক স্কিনের জন্য খুবই খারাপ। যত কম ইউজ করবেন তত ভালো, বা ইউজ না করলে। কিন্তু ধরেন মাসে একবার বা দুইবার ইউজ করলেন, তাতে সমস্যা হবে না। পূর্বপ্রস্তুতিঃ পার্টি মেকাপের বেইজ করতে বসার আগে লক্ষ করুন দিনের পার্টি না, রাতের পার্টি, ওয়েদার কেমন। যদি দিনের পার্টি হয় তাহলে বেইজ টা করতে হবে যত হাল্কা এবং ন্যাচারাল করা যায়, আর রাতের পার্টি হলে একটু ভারি বেইজ হলে সমস্যা হয় না, বরং লাইটিং এ ছবি ভালো আসবে। বেইজ করার আগে মুখে একটা উপটান লাগিয়ে নিন, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এবার বরফ ঘষে নিন ১০ মিনিট। হয়ে গেলে ড্রাই স্কিনের জন্য ময়েশ্চারাইজ করে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য যদি ওয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার থাকে তাহলে তা  দিয়ে নিন হাল্কা করে। এবার একটা ব্যান্ড দিয়ে চুল আটকিয়ে নিন যাতে মুখে চুল না পরে একদমই।

বেইজ:

যা যা লাগবে-

  • ফেইস প্রাইমার (যদি থাকে)
  • ফাউন্ডেশন/প্যানকেক
  • কনসিলার
  • ফেইসপাউডার
  • মেকাপ সেটিং স্প্রে (যদি থাকে)
  • ফেইস ব্রাশ/স্পঞ্জ

 

কোন প্রোডাক্ট কোন ব্রান্ডের ভালো এই নিয়ে আমি আরেকটি আর্টিকেল  দিব, একটু কষ্ট করে সেই আর্টিকেলটা পড়ে নিবেন। এই আর্টিকেলে  আমি কোন প্রোডাক্ট সাজেস্ট করব না, শুধু পদ্ধতির বর্ণনা দিব, যাতে যার যা প্রোডাক্ট আছে তা দিয়েই চেষ্টা করতে পারেন।

601360_541172095903503_760966060_n

১) ফেইস প্রাইমার আঙ্গুলের মাথায় নিয়ে মুখে অল ওভার ঘষে ঘষে লাগাতে হবে, প্রাইমার সুন্দর করে ব্লেন্ড করে নিলে বেইজ অনেক স্মুথ হবে।  প্রাইমার এর পরিমাণ বেশি হলে কিন্তু মুখ ওয়েলি লাগবে, আবার কম হলেও কাজ দিবে না, আমি মোটামুটি এতোটুকু পরিমাণ ব্যবহার করি মুখের জন্য, অবশ্য পরিমাণটা উনিশ বিশ হয় কোন ব্রান্ড সে হিসাবেঃ 426378_539318979422148_894953449_n

২) প্রাইমার দেওয়ার পর মিনিট দশেক অপেক্ষা করুন। প্রাইমারটা ফেইসে বসে গেলে, তারপর মুখে গাঢ় কোন দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে হাল্কা করে কভার করে নিতে হবে, আঙ্গুল দিয়ে হাল্কা করে প্রেস করে দাগের উপর বসিয়ে দিতে হবে, খেয়াল রাখুন কনসিলার ব্লেন্ড করবেন না। তাতে করে দাগ না ঢেকে মেসি হয়ে যাবে, এমনভাবে কনসিলার লাগাতে হবে যাতে শুধু দাগটাকে কভার করে আর স্কিনের মতই ন্যাচারাল লাগে। শুধুমাত্র গাঢ় দাগ থাকলে এখন কনসিলিং করুন, দাগ হাল্কা হলে ফাউন্ডেশনের পর কন্সিলিং করতে হবে।

৩) এবার ফাউন্ডেশন দিতে হবে। অথবা লিকুইড ফাউন্ডেশনে সমস্যা থাকলে প্যানকেক ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি প্যানস্টিক ও একি কাজ দিবে। লিকুইড ফাউন্ডেশনঃ  অনেকে হাতের উপরে ফাউন্ডেশন ঢেলে সেখান থেকে নিয়ে ব্লেন্ড করে, কিন্তু  আমার ত্বক যেহেতু অনেক তৈলাক্ত তাই আমার মনে হয় ত্বকের উপরে নিলে ত্বকের তেল ফাউন্ডেশনে মেস আপ করতে পারে, তাই আমি প্লেট বা প্লাস্টিক শীট ব্যবহার করি।  এরকম একটা প্লাস্টিকের শীট নিনঃ

IMG_2284

প্লাস্টিক শীট

এবার এভাবে ফাউন্ডেশন ঢেলে নিন যততটুকু দরকারঃ

IMG_2285

আমি ফাউন্ডেশন যদি ভারি হয় যেমন রেভলন কালারস্টে তাহলে বিউটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করি বা স্পঞ্জ, এই ব্লেন্ডার পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিয়ে তাতে ফাউন্ডেশন নিয়ে মুখে ব্লেন্ড করতে হয়, আবার হাল্কা ধরণের ফাউন্ডেশনের জন্য ফেইস ব্রাশ করা যায়। অনেকে আবার আঙ্গুল দিয়ে ব্লেন্ড করতেই পছন্দ করেন। তবে তোইলাক্ত স্কিনের জন্য হাতের ব্যবহার না করাই ভালো। পরিস্কার ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করা উচিৎ।

Untitled

বিউটি ব্লেন্ডার

প্যানকেকঃ প্যানকেক ব্যবহার করতে চাইলে আপনার শেড মিলিয়ে দুইটি প্যানকেক কিনে নিন। চাইলে একটা দিয়েও করতে পারেন। ভালো স্পঞ্জ কিনে নিন আগেই। স্পঞ্জ ভিজিয়ে বাড়তি পানি ফেলে দিয়ে তারপর স্পঞ্জে প্যানকেক লাগিয়ে আস্তে আস্তে বেইজ তৈরি করেন , বার বার স্পঞ্জ ভিজিয়ে ব্লেন্ড করুন। ত্বকের উপর স্পঞ্জ না ঘষে বরং ছোট ছোট স্ট্রোকে ফেইস কভার করুন। চাইলে প্রথমে হলুদ একটা শেড দিয়ে এক লেয়ার করে তার উপর ন্যাচারাল শেড দিয়ে বেইজ করতে পারেন। বা দুই শেড মিশিয়েও করতে পারেন।

আমি সাধারনত রাতের জমকালো মেকাপে ভারি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করি, দিনের বিয়ের দাওয়াত হলে প্যানকেক ব্যবহার করি যেহেতু প্যানকেক অনেক বেশি সময় ওয়েল ফ্রি থাকে, গলে না, দিনের নরমাল পার্টি হলে হাল্কা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করি।

৪) ফাউন্ডেশন বা প্যানকেক দিয়ে বেইজ হয়ে গেলে এবার যদি মেকাপ সেটিং স্প্রে থাকে তাহলে স্প্রে করে দিতে পারেন এই বেইজের উপরে। অনেকে এটা ফেইস পাউডার দিয়ে বেইজ সেট করার পরেও দেয়, যদিও আমার আগে দেয়াই পছন্দ। এমনকি আপনি স্প্রে ফাউন্ডেশন দেওয়ার আগে ফাউন্ডেশনের মধ্যে অ স্প্রে করে নিতে পারেন। মেকাপ সেটিং স্প্রে না থাকলে স্প্রে বোতলে পানি নিয়ে তাও হাল্কা স্প্রে করে দিতে পারেন, এতে করে মেকাপের স্থায়িত্ব বেশি না হলেও এয়ারব্রাশড টাইপ একটা ব্যাপার আনতে পারবেন।

IMG_2487

পাউডার পাফে ফেইস পাউডার

৫) এবার ফাউন্ডেশন বা প্যানকেকের বেইজটা ফেইস পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। আমি পাউডার পাফ দিয়ে হাল্কা করে বেইজের উপর বুলিয়ে সেট করে নিতে পছন্দ করি। আপনি যদি ফেইস পাউডারের সাথে দেওয়া স্পঞ্জ ব্যবহার করতে চান সেই ক্ষেত্রে শুধু হাল্কা করে ড্যাব করে করে পাউডার দিয়ে সেট করুন, স্পঞ্জ দিয়ে ফেইস পাউডার যদি ব্লেন্ড করতে যান ফাউন্ডেশনের উপর তাহলে কিন্তু ফাউন্ডেশন এর বেইজ নষ্ট হয়ে যাবে।

ফেইস পাউডারের বদলে বা ফেইস পাউডারের উপরে HD setting powder ব্যবহার করতে পারেন, ব্রাশের মাথায় সামান্য পাউডার নিয়ে হাল্কা করে বুলিয়ে নিন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার বেইজ।

IMG_2503

HD powder

আজকে এই পর্যন্তই। তৈলাক্ত ত্বকের বেইজ মেকাপের জন্য বেস্ট প্রোডাক্ট লিস্টের পোস্টের জন্য সাথেই থাকুন। শুভকামনা সবার জন্য! :)

লিখেছেনঃ তাসিয়া

মডেলঃ তাসিয়া

Recommended


Comments

comments

3 Comments

Leave a Comment

*