মেকাপ, হাল ফ্যাশন

যখন যেমন মেক-আপ

ঋতুভেদে আমাদের দেশে একেক সময় একেক রকম আবহাওয়া বিরাজমান। এই প্রচন্ড গরম তো এই ঝুম বৃষ্টি। তাই মৌসুম বুঝে শুনে মেক-আপ করাটা জরুরী, না হলে পুরো মেক-আপটাই পন্ড হয়ে যেতে পারে। আপনি হয়ত দ্বিধায় পড়তে পারেন এটা ভেবে যে কখন কোন মেক-আপ করতে হবে। তবে আর কোন চিন্তা নেই, চলুন জেনে নেই কোন ঋতুতে কেমন ভাবে মেক-আপ করবেন। আজ শুধু গরমের মেক-আপ নিয়ে আলোচনা করছি।

গ্রীষ্মকাল। গরমে ঠিকভাবে চলাফেরা করাই দায়। তীব্র গরমে সকলেরই নাজেহাল অবস্থা অনেকেই ভয় পান এ সময় মেক-আপ করতে হবে শুনলে। কিন্তু তাই বলে তো আর বিশেষ অনুষ্ঠান কিংবা দাওয়াতে বিনা সাজগোজে চলে যাওয়াটা সমীচীন নয়। গরমের দাপট তো থাকবেই, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের জীবন-যাপনও চালিয়ে নিতে হবে সমান তালে। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক কেমন করে করতে হবে গরমের মেক-আপ।

০১. প্রথমেই একটি ভাল ব্র্যান্ডের ফেস ওয়াশ দিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল পরিষ্কার করে নিন। তৈলাক্ত ত্বক হলে অবশ্যই তেলমুক্ত ফেস ওয়াশ বেঁছে নিন, নতুবা কিছুক্ষণ পরেই মুখটা তেলতেলে হয়ে খারাপ করে দিবে আপনার মেক-আপ। তারপর এক টুকরা বরফ ঘষে নিতে পারেন ।

০২. এবার তুলার সাহায্যে শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকে টোনার এবং তৈলাক্ত ত্বকে এস্ট্রিনজেন্ট বুলিয়ে নিন। অপেক্ষা করুন ৫ মিনিটের মত যাতে করে আপনার ত্বকের সাথে সম্পূর্ন ভাবে মিশে যেতে পারে।

০৩. দিনের বেলা অবশ্যই সানস্ক্রীন লোশন লাগিয়ে নিন, রাতের পার্টি হলে আর এটির প্রয়োজন নেই।

০৪. আপনি যদি দীর্ঘ সময় মেক-আপ স্থায়ী করতে চান তবে ব্যবহার করতে পারেন স্কিন প্রাইমার। এটা আবশ্যিক নয়, ইচ্ছা না হলে বাদ দিতে পারেন ।

০৫. ত্বকে যদি ব্রন বা অন্য কিছুর দাগ থাকে তবে শুরু করুন কন্সিলার দিয়ে। এ ক্ষেত্রে আপনার গায়ের রঙের চেয়ে এক শেড উজ্জ্বল রঙ বেঁছে নিন। আর যদি কোন রকমের দাগ না থাকে তবে এই স্টেপটিও বাদ দেয়া যায়।

০৬. এবার আসুন ফাউন্ডেশনে। আপনি চাইলে এক শেড উজ্জ্বল রঙ বেছে নিতে পারেন কিংবা ব্যবহার করতে পারেন আপনার গায়ের রঙের মত একই রঙের। খেয়াল রখবেন আপনার ফাউন্ডেশনটি যেন অবশ্যই oil free হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে লিকুইড ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে ম্যাট ফাউন্ডেশন বেঁছে নিন। তবেই আপনি পাবেন সারাদিনের জন্য উপযুক্ত তেলহীন ঔজ্জ্বল্য ।

০৭. বড় ব্রাশ দিয়ে বুলিয়ে নিন মিনারেল পাউডারের ছোঁয়া। আপনি চাইলে লিকুইড/ম্যাট ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে শুধু মিনারেল পাউডার-ও ব্যবহার করতে পারেন।

০৮. এরপর কমপ্যাক্ট/প্রেসড পাউডার দিয়ে পুরো মেক-আপটি বসিয়ে নিন। চাইলে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার দিয়েও এ কাজ সেরে নিতে পারেন।

০৯. এবার চোখ সাজাবার পালা। পোশাকের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন আই শ্যাডো, আর রাতের পার্টিতে চোখ দুটিতে দিতে পারেন স্মোকি আমেজ। আই প্রাইমার দিয়ে প্রথমেই দু চোখের পাতাকে প্রাইম করে নিন। একই রঙের শ্যাডো দিয়ে ভরে নিন দুই চোখ; চাইলে দুই-তিন রঙের শ্যাডো মিলিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখে আসবে এক ভিন্ন মাত্রা। খেয়াল রাখবেন শ্যাডো যেন পাউডারি হয় ।

১০. আইলাইনার বা কাজল দিয়ে চোখের উপরের পাতা এঁকে নিন। খুব সতর্কতার সাথে নিচের পাতায়-ও কাজল বুলিয়ে নিন। স্মাজ প্রুফ কাজল হলে সুবিধা, এতে অনেকক্ষণ পর্যন্ত কাজল ছড়ায় না।

১১. আইল্যাশ কার্লার দিয়ে চোখের পাপড়ি কার্ল করে নিন এবং পছন্দমত মাশকারা দিয়ে নিন দুই চোখেই।

EyelashCurler

১২. এবার ম্যাট লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে নিন ঠোঁট দুটি। গরমে লিপ গ্লস এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। খুব বেশি শুষ্ক ঠোঁট হলে লিপস্টিক ব্যবহারে আগে লিপ বাম লাগাতে পারেন। এতে ঠোঁট আদ্র থাকবে ঠিকই কিন্তু লিপস্টিক ছড়িয়ে যাবার ভয় থাকে না ।

১৩. সবশেষে দু গাল এ বুলিয়ে নিতে পারেন ব্লাশ-অন। তবে তা যেন ম্যাট ব্লাশ-অন হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। দিনের বেলাতে খুব গাঢ় রঙের ব্লাশ-অন ব্যবহার না করাই শ্রেয় ।

১৪. ইচ্ছা করলে মেক-আপ সেটিং স্প্রে দিয়ে মেক-আপের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করা যায়। এতে চেহারাতে শাইন ও oil free প্রভাব আনা যায়।

makeup-setting-sprays

মেক-আপ করার আগে একটা ব্যপার অবশ্যই মনে রাখবেন যে মেক-আপ কেবল আপনার চেহারার খুঁত গুলো ঢাকার জন্য, এক গাদা প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করার জন্য নয়। তাই চেষ্টা করুন আপনার গায়ের রঙের সাথে মিল রেখে মেক-আপ করতে। তবেই হাজারো মুখের মাঝে সবার মধ্যমণি হয়ে উঠবেন আপনি। তাই গরমকে আর ভয় নয়, তুলে ধরুন আপনার আপন সৌন্দর্য।

লিখেছেনঃ রোজা স্বর্ণা

মডেলঃ ইশারা

Recommended


Comments

comments

Leave a Comment

*