হাল ফ্যাশন

কর্ণে তৃতীয়া তিথি

কবির কল্পনায় কবি হয়তো কর্ণে তৃতীয়া তিথি পরাতে চেয়েছেন,বাস্তবে সেটা সম্ভব না হলেও আপনি কিন্তু আপনার কান জোড়াকে ঠিকই আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।সেজন্য প্রয়োজন একটু সচেতনতা আর হাল ফ্যাশন সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর রাখা।সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথেই আমাদের রুচির-ও পরিবর্তন হয়।বদলে যায় পুরনো ফ্যাশন,দখল করে নেয় নতুনত্ব।এখন কিন্তু প্রচণ্ড গরম পড়েছে।এত গরমের মাঝেও আমাদের বাইরে যেতেই হয়।আর বাইরে যেতে হলেই প্রস্তুতি নেয়ার একটা ব্যাপার থাকে।চাই একটু সাজসজ্জা।চুলটা একটু আঁচড়ে নিলেন,হয়তো একটু পাউডার ও বুলিয়ে নিলেন মুখে।তবু কি যেন নেই নেই ভাব থেকেই যায়।যতক্ষণ না আপনি কানের দুল জোড়া তুলে নেন।এবার যেন সাজটা পূর্ণতা পেল।আপনার ব্যক্তিত্ব-ও হয়ে উঠলো আকর্ষণীয়।এর জন্য চাই সঠিক দুল নির্বাচন।এই বিষয়ে খেয়াল না করার জন্য অন্যের চোখে ব্যপারটা দৃষ্টিকটু হয়ে উঠতে পারে।

গরমে দুলের ফ্যাশনঃ

এইতো কিছুদিন আগেই বড় বড় দুল পরাই ছিল ফ্যাশন।কিন্তু পোশাক অথবা দুল যাই বলেন না কেন এই গরমকালে সব কিছু হালকা পরতেই স্বস্তিবোধ হয়।ফ্যাশন সচেতন যারা,তারা এখন শাড়ির সাথেও ছোট দুল পরছেন।আপনার পোশাকটি যাই হোক না কেন গরমে স্বস্তি পেতে আপনি নিশ্চিন্তে ছোট দুল বেঁছে নিতে পারেন।

কেমন দুল পরবঃ

পাথরের দুল পরতে পারেন।জারকান,নরমাল অথবা রুবি যে পাথর-ই বেছে নেন না কেন,আপনার কানের সাথে মানিয়ে যাবে।সোনা রুপা,মুক্তা তো আছেই। অনেকে হীরার দুল-ও পরছেন।দামী মেটাল এর দুল গুলো কোন অনুষ্ঠানে পরতে পারেন। দৈনন্দিন কাজে হালকা দুল গুলো বেঁছে নিতে পারেন।বাঁশ,নারিকেলের আইচা,ফিতা,চট,কাপড়,মাটির দুল-ও বেঁছে নিতে পারেন।কাঠ,পাটকাঠি,সিরামিকের দুলেও নিজেকে সাজিয়ে নিতে পারেন।যারা একটু বয়স্ক তারা সাধারণত সোনা,রূপা,মুক্তা পছন্দ করে থাকেন।ইয়াং জেনারেশন পাথর,অক্সিডাইজ এর দুল বেশি পরে থাকে। সব কিছুই পরা যায় পোশাক, চুল, সাজগোজের সাথে মিলিয়ে।

011

er1

wdclsy

কিছু বিষয় দুল পরার সময় খেয়াল করতে হয়। যেমন –

১)মুখের গড়নঃ

লম্বা মুখ যদি হয় আর আপনি যদি লম্বা কোন দুল বেঁছে নেন,তবে আপনার মুখখানা আরো লম্বা দেখাবে।তেমনি যাদের মুখ গোলাকার তারা যদি গোল দুল পরেন, আরো গোল দেখাবে মুখ।লম্বা মুখ যাদের তারা টপ,ছোট ঝুমকা,রিং পরতে পারেন।গোলাকার মুখ যাদের,তাদের বেশি মানায় একটু ঝোলানো দুল।লম্বা দুলগুলো খুব মানিয়ে যায়।চৌকোনা মুখের জন্য ছড়ানো দুল না পরাই ভাল।সেক্ষেত্রে ছোট গোল অথবা টপ বেছে নিতে পারেন।আর একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ,সেটা হল গলা।লম্বা গলার যারা তারা লম্বা খাটো সবকিছু পরলেই মানিয়ে যায় কিন্তু একটু ছোট গলা হলে ছোট দুল-ই বেঁছে নিন।

rface

২)চুলের রকমভেদেঃ

দুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার চুলের দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন।কোঁকড়া চুল হলে পাথর, মুক্তা,রূপার দুল বেশি ফুটে উঠবে।সোজা চুল হলে একটু লম্বা দুল ভালো লাগে।ঝুমকা-ও পরতে পারেন।চুল বাঁধার উপর ভিত্তি করে দুল নির্বাচন করুন।চুল খোলা রাখতে চাইলে একটু বড় দুল পরতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে গরম আর আপনার স্বস্তি লাগছে কিনা খেয়াল করে পরুন।আপনার অস্বস্তি হলে আপনাকে আকর্ষণীয় লাগবে না।যদি খোপা করেন বড় দুল না পরাই ভালো,কিন্তু একটু গর্জিয়াস পোশাক হলে খোপার সাথে ঝুমকা পরতে পারেন।

৩) পোশাক অনুযায়ীঃ

সারাদিন-ই হয়তো আপনাকে বাইরে থাকতে হয়।আবার আপনাকে কোনও অনুষ্ঠান যেমন বিয়ে বাড়িতেও যেতে হয়। এই দুই ক্ষেত্রে আপনার পোশাক-ও আলাদা হয়।তাই দুল বেঁছে নেয়ার সময় পোশাকটির দিকে নজর দিন।সাধারণত বাইরে যাওয়ার সময় সালওয়ার কামিজ যদি বেঁছে নেন তাহলে হালকা দুল বেছে নিন।টপ, ছোট পাথর বা কাপরের দুল,পুঁতির দুল পরতে পারেন।অফিস বা অন্য কোথাও শাড়ি পরলে কাঠের,পাথরের,বা মাটির দুল-ও বেঁছে নিতে পারেন।অনেকে সোনা,রুপা,হীরা দিয়ে ছোট ছোট দুল বানিয়ে পরে থাকেন।আবার কোন অনুষ্ঠানে যদি যান, একটু ভারী দুল-ই মানাবে। সেক্ষেত্রে ঝুমকা সবচেয়ে ভাল মানাবে।

৪)সাজসজ্জার সাথে মিলিয়েঃ

হালকা সাজের সাথে হালকা কোনও টপ,পুতি,পাথর যেমন যায়,একটু ভারী হলেও মানিয়ে যায়।কিন্তু আপনার সাজটা যদি ভারী হয়,যেমন ভারী মেক-আপ করেন তাহলে বড় লম্বা আর ভারী দুল না পরাই ভাল।সেক্ষেত্রে একটু দামী ধাতুর ছোট কোন দুল পরতে পারেন।গলায় যে গহনা পরবেন তার সাথে মিলিয়ে দুল পরতে হবে।গলার হারটা যদি ভারী কাজের হয়,কানের দুলটা ভারী হওয়া উচিৎ না।যদি ভারী কানের দুল পরতেই চান তাহলে গলায় হালকা কিছু পরুন।ভারী মেক-আপ,ভারী দুল আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করবে।

wed

৫)দুলের রং কেমন হবেঃ

কিছুদিন আগেও পোশাকের রঙের সাথে মিলিয়ে পরার চল ছিল।এখন সবাই কনট্রাস্ট করে পরছে।আপনার ওড়না,জামার এবং শাড়ির পাড় অথবা টিপের সাথে মিলিয়ে পরা যায়।সোনা,রুপা,মুক্তা সব কিছুর সাথেই পরা যায়।সাদা বা কালো ও মোটামুটি সব পোশাকের সাথে চলে যায়।মেটালের দুল পরলে তাতে যদি ছোট ছোট পাথর বসিয়ে নেন,আকর্ষণীয় লাগবে।গোল্ড প্লেটেড দুল ও আজকাল ফ্যাশন সচেতনরা কিনছেন।

wd

কোথায় পাবোঃ

সাধারণ এই ছোট ছোট দুল গুলো আপনি যেকোনো মার্কেট থেকেই কিনতে পারেন।কাঠ,পাটকাঠি,সিরামিক,মাটি,কাপড়ের দুল গুলো নিউ মার্কেট সহ সব মার্কেটেই পাওয়া যাবে।দামে একটু সস্তা পেতে চাইলে মার্কেট,স্কুল,কলেজের পাশে ফুটপাত এ ছোট ছোট দোকান থেকে কিনতে পারেন।একটু আনকমন দুল চাইলে যেতে পারেন বসুন্ধরা সিটি,হলমার্ক,আর্চিস গ্যালারী,আলমাসে।আজকাল ফ্যাশন হাউজ গুলোও তাদের নিজেদের দুলের কালেকশন রাখে।যেতে পারেন আড়ং,অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট,রং অথবা বাংলার মেলাতে। আপনার পছন্দের কোন না কোন দুল পেয়ে যাবেন।সোনা,রূপার দুল চাইলে অর্ডার দিয়ে বানালে ভালো করবেন।

দরদামঃ

পাথরের দুলগুলো কিনতে পারবেন ৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।দাম নির্ভর করে পাথরের কোয়ালিটি আর পরিমাণের উপর। পাথর বসানো ঝুমকা যদি নিউ মার্কেট থেকে কিনতে চান ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন।আর্চিস,হলমার্ক থেকে ১৫০ থেকে ১৫০০ টাকায় পছন্দমতো দুল পেয়ে যাবেন। মাটি,কাঠ,পুঁতির দুল গুলো ৪০ থেকে ৩০০ টাকার ভেতরেই পেয়ে যাবেন।

দুল কেনার সময় আপনার দুটো কানেই দেখে নিন,আপনাকে মানিয়েছে কিনা।যতই মনকাড়া দুল হোক না কেন আপনাকে যদি না মানায় না কেনাই ভালো।এক জোড়া দুল আপনার ব্যক্তিত্ব আর সুরুচির পরিচায়ক।ব্যক্তিত্বের সাথে মিলিয়ে দুল পরুন আর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন।

লিখেছেনঃ সানিয়া

Comments

comments

Recommended